বিশেষ প্রতিবেদকঃ গুলশানস্থ কানাডিয়ান ট্রিলিনিয়াম স্কুল (সিটিএস) এবং এর শাখা কানাডিয়ান ট্রিলিনিয়াম ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে (সিটিআইএস) নারী শিক্ষিকা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদুর রহমান পিয়াল এবং তার ঘনিষ্ঠ সহকর্মী হিসেবে পরিচিত চার নারী—পাকিস্তানি নাগরিক ও বর্তমান ভাইস প্রিন্সিপাল আয়েশা, মানবসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা শুভ্রা, কো-অর্ডিনেটর অবন্তী এবং আরেক কর্মকর্তা রিফাত। অভিযোগকারীদের দাবি, এদের প্রভাব ও অনৈতিক চাপের কারণে নারী কর্মীদের কর্মপরিবেশ ভয়াবহ রকম অসম্মানজনক ও অনিরাপদ হয়ে উঠেছে।

স্কুলের কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক নারী কর্মী জানান, ব্যক্তিগত স্বার্থে সুযোগ নেওয়ার প্রবণতা এবং অবৈধ প্রভাব খাটানোর কারণে বহু কর্মী বাধ্য হয়ে চাকরি ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন। তারা অভিযোগ করেন, প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বা পদোন্নতির ক্ষেত্রে যোগ্যতার চেয়ে প্রভাবশালী সম্পর্ক ও বিশেষ সুবিধা দেওয়ার প্রবণতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তারা দাবি করেন, কর্মীদের সম্মান ও অধিকার প্রায়ই উপেক্ষিত হয় এবং অভিযোগ করার মতো নিরাপদ কোনো ব্যবস্থা নেই।

অভিযোগ রয়েছে, পাকিস্তানি নাগরিক আয়েশা শুরুতে শিক্ষক সহকারী হিসেবে যোগদান করলেও অল্প সময়ের মধ্যেই ভাইস প্রিন্সিপাল পদে উন্নীত হন। অভিযোগকারীরা এ নিয়োগকে প্রশ্নবিদ্ধ বলে উল্লেখ করেছেন এবং দাবি করেন, তিনি ও তার স্বামী জিয়া প্রতিষ্ঠানে অস্বাভাবিকভাবে প্রভাব বিস্তার করছেন। জিয়ার শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে এবং অভিযোগ করা হয়েছে, ব্যক্তিগত সম্পর্কের জোরে তিনি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্বে অবস্থান করছেন।

এছাড়া এইচআর কর্মকর্তা শুভ্রা এবং অবন্তীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে যে তারা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের প্রভাব বাড়াতে ভূমিকা রাখছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, তারা নারী কর্মীদের বিভিন্ন অজুহাতে মানসিক চাপ ও হুমকির মধ্যে রাখেন। এমনকি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে চাকরি হারানোর ভয় দেখানো হয় বলে অভিযোগ।

সম্প্রতি একজন নারী শিক্ষক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিয়ে অভিযোগ করেন যে, কৌশলে তাকে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বাসায় ডেকে নিয়ে হয়রানির চেষ্টা করা হয়। পোস্টটি প্রকাশের পর আলোচনা শুরু হলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই তা সরিয়ে ফেলা হয় বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন। তারা দাবি করেন, অর্থ ও রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে অভিযোগের সত্যতা ঢাকা হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, স্কুল কর্তৃপক্ষ ও পরিচালনা পর্ষদ এসব বিষয়ে নীরব রয়েছে। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেননি। তবে নারী শিক্ষিকা ও কর্মীরা প্রশাসনের কাছে হস্তক্ষেপ এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *