বিশেষ প্রতিবেদকঃ ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৩–এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মইনুল ইসলামের বিরুদ্ধে তেজগাঁও শিল্প এলাকায় উচ্ছেদের নামে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, শিল্প প্লটের মালিকদের কাগজপত্র যাচাইয়ের কথা বলে নানা ত্রুটি ধরিয়ে অর্থ আদায় করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে প্লট দখল দেখিয়ে আবার মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে সেই জমি অন্য মালিকের কাছে হস্তান্তরের অভিযোগও রয়েছে।

তেজগাঁও গভর্নমেন্ট হকার্স মার্কেট এলাকাতেও একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি বরাদ্দের বাইরে প্রায় একশ’টি অবৈধ দোকান বসিয়ে সেখান থেকে কোটি কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। অভিযোগে বলা হয়, এই অবৈধ দোকান বসানোর পেছনে সরাসরি নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মইনুল ইসলামের ভূমিকা রয়েছে এবং এখান থেকেই অন্তত দশ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

এছাড়া এক বছরে প্রায় পঞ্চাশ কোটি টাকার টেন্ডার বাণিজ্যের অভিযোগও উঠেছে। কেরানীগঞ্জ মডেল থানা উত্তর ও দক্ষিণ এলাকার দরপত্রে টেন্ডার ওপেনের আগেই নির্দিষ্ট রাজনৈতিক নাম ব্যবহার করে চাপ সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে দেখা যায়, দরপত্র খোলার পর একটি নির্দিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ১০ শতাংশ কম দরে কাজ পাইয়ে দেওয়া হয় এবং অন্য অংশগ্রহণকারীরা সুযোগ পান না।

অভিযোগে আরও বলা হয়, টেন্ডার অনুমোদনের বিনিময়ে নিয়মিত কমিশন আদায় করা হয়। বিল পাসের সময় হিসাব শাখার মাধ্যমে পাঁচ শতাংশ কমিশন নেওয়ার কথাও উঠে এসেছে। এসব অর্থ লেনদেনের কারণেই একজন সরকারি কর্মকর্তার আয় ও ব্যয়ের মধ্যে বড় ধরনের অমিল দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

মাদক নিরাময় কেন্দ্র প্রকল্প, বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ, মডেল মসজিদসহ একাধিক প্রকল্পে দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। ডিপিপির নিয়ম ভেঙে একাধিক প্যাকেজ একত্র করে দরপত্র আহ্বান, একই কাজের জন্য বারবার ভেরিয়েশন দেখিয়ে অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলন এবং ওটিএম পদ্ধতিতে পছন্দের ঠিকাদারকে রেট কোট দিয়ে কাজ দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

এই অভিযোগের সঙ্গে কয়েকজন ঠিকাদারের নামও উঠে এসেছে, যাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে কাজ নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। বিশেষ করে বাবর এসোসিয়েটসসহ কিছু প্রতিষ্ঠানকে নিয়মিত সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। কেরানীগঞ্জ জেলখানা ও মডেল মসজিদের একাধিক প্রকল্পে একই কৌশলে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

ব্যক্তিগত জীবনযাপন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সীমিত বেতনের সরকারি কর্মকর্তা হয়েও সম্প্রতি ৬৫ লাখ টাকার একটি বিলাসবহুল গাড়ি কেনা হয়েছে। কুড়িগ্রামে প্রায় ১০ একর জমিতে রিসোর্ট নির্মাণ এবং নিয়মিত বিমানে যাতায়াতের তথ্যও সামনে এসেছে। এসব বিষয় মিলিয়ে অভিযোগকারীরা বলছেন, এক বছরের মধ্যেই বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন মোঃ মইনুল ইসলাম।

সব মিলিয়ে তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে শুরু করে কেরানীগঞ্জ পর্যন্ত একাধিক প্রকল্পে টেন্ডার বাণিজ্য, কমিশন আদায় ও অবৈধ অর্থ লেনদেনের অভিযোগে ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৩–এর এই নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে তদন্ত দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *