আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইউরোপের পশ্চিমাঞ্চলে শত শত মানুষের মৃত্যুর পর এবার পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোও ভয়াবহ তাপপ্রবাহের মুখে পড়েছে। পোল্যান্ড, চেকিয়া (চেক প্রজাতন্ত্র) ও স্লোভাকিয়ায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এদিকে, ফ্রান্সে তাপপ্রবাহে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।
রোববার (২৮ জুন) ইউরোপজুড়ে অন্তত ১৯ কোটি ১০ লাখ মানুষ ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি তাপমাত্রার মধ্যে ছিলেন। জার্মানি, চেকিয়া, পোল্যান্ড ও হাঙ্গেরিতে চরম তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
পোল্যান্ডে ১৯২১ সালে রেকর্ড হওয়া সর্বোচ্চ ৪০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার রেকর্ড রোববার (২৮ জুন) ভেঙে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দেশটির সরকারি নিরাপত্তা সংস্থা নাগরিকদের মোবাইলে বার্তা পাঠিয়ে সূর্যের তাপ এড়িয়ে চলা, অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম না করা, পর্যাপ্ত পানি পান করা ও টুপি ব্যবহার করার আহ্বান জানিয়েছে। তাপ থেকে মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দিতে বিভিন্ন শহরে পানির ফোয়ারা বা ‘ওয়াটার কার্টেন’ স্থাপন করা হয়েছে।
চেক হাইড্রোমেটিওরোলজিক্যাল ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, দেশটিতে তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশ খানিকটা বেশি হতে পারে বলে তারা ধারণা করছে।
চেকিয়ায় শনিবারই ৪০.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে, যা দেশটির সর্বকালের সর্বোচ্চ। রাতভর দেশটির ১০০টিরও বেশি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রির নিচে নামেনি। তবে আবহাওয়া দপ্তরের মতে, রোববার (২৮ জুন) পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, শনিবারের (২৭ জুন) রেকর্ড নিশ্চিতভাবেই আবারও ভেঙে যাবে। একই সঙ্গে রোববার রাতেও ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ রাতের নতুন রেকর্ড গড়তে পারে দেশটি।
জার্মানিতেও শনিবার (২৭ জুন) রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড হয়েছে। দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় স্যাক্সনির বাউটজেন এলাকায় রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৯.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
বার্লিনের বাসিন্দাদের তীব্র গরম থেকে কিছুটা স্বস্তি দিতে শনিবার (২৭ জুন) জলকামান ব্যবহার করে পানি ছিটিয়েছে পুলিশ। একই ব্যবস্থা রোববারও চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, জার্মানির রাষ্ট্রীয় রেল সংস্থা ডয়চে বান সপ্তাহের শেষে অতি প্রয়োজন ছাড়া ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে।
স্লোভাকিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে এরই মধ্যে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। ২০০৭ সালে দেশটির সর্বোচ্চ ৪০.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার রেকর্ড রোববার বা সোমবার (২৯ জুন) ভেঙে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১৮৭১ সালে রেকর্ড সংরক্ষণ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম স্লোভাকিয়ায় টানা তিন দিন ৪০ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রা থাকতে পারে।
ডেনমার্কেও শনিবার (২৭ জুন) ১৮৭৪ সালে তাপমাত্রা পরিমাপ শুরু হওয়ার পর সর্বোচ্চ ৩৬.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। এটি দেশটির ওডেন্স শহরের উত্তরের একটি এলাকায় পরিমাপ করা হয়।
এদিকে ফ্রান্সে ভয়াবহ তাপপ্রবাহে মৃত্যুর হিসাব শুরু করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। দেশটির জাতীয় জনস্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ২৪ জুন থেকে ২৭ জুন পর্যন্ত আগের মাসগুলোর তুলনায় অতিরিক্ত এক হাজার মানুষের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। তবে এই সংখ্যা এখনো প্রাথমিক ও শেষ পর্যন্ত তা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে মানুষের নিজ নিজ বাড়িতে। বিশেষ করে, রাজধানী প্যারিস ও এর আশপাশের এলাকা নিয়ে গঠিত ইল-দ্য-ফ্রান্স অঞ্চলে এ প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। মৃতদের অধিকাংশের বয়স ৬৫ বছরের বেশি হলেও অপেক্ষাকৃত কম বয়সীরাও এই তাপপ্রবাহের শিকার হয়েছেন।
জনস্বাস্থ্য সংস্থা এক বিবৃতিতে বলেছে, এই পরিস্থিতি বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ শহরাঞ্চলে একাকী ও সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন মানুষের প্রতি সংহতি ও সহায়তা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে।
জরুরি বিভাগের চিকিৎসক এবং ডানপন্থি লে রিপাবলিকাঁ দলের সংসদ সদস্য ফিলিপ জুভাঁ বলেছেন, ফ্রান্সে শেষ পর্যন্ত তাপপ্রবাহে মৃতের সংখ্যা অনেক বেশি হবে বলে তিনি মনে করেন। তার ভাষায়, এমনও হতে পারে যে এখনো অনেক মানুষ নিজেদের বাড়িতে অচেতন অবস্থায় কিংবা মারা গেছেন, কিন্তু আগামী সপ্তাহের আগে তাদের খুঁজে পাওয়া যাবে না।
ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু বলেছেন, আগামী কয়েক দিন দেশটির হাসপাতাল ও জরুরি সেবাগুলোর ওপর চাপ অব্যাহত থাকবে। গ্রিনস পার্টির নেতা মেরিন টঁদেলিয়ে বলেছেন, এত বিপুল মৃত্যুর কারণ পুরোপুরি তদন্ত করে সামনে আনতে হবে এবং জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ নুনেজ জানিয়েছেন, তাপপ্রবাহের সবচেয়ে ভয়াবহ সময়ে অ্যাম্বুলেন্স সেবা ১ লাখ ২২ হাজারেরও বেশি জরুরি কলের সাড়া দিয়েছে।
স্পেনের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, রোববার (২১ জুন) থেকে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) পর্যন্ত অন্তত ৩২৭ জনের মৃত্যু তাপপ্রবাহের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
অন্যদিকে, উত্তর ফ্রান্সের বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রবল বজ্রঝড় ও দমকা হাওয়া আঘাত হেনেছে। এতে বহু মানুষ আহত হয়েছেন। জরুরি সেবা কর্মীরা সড়কে উপড়ে পড়া গাছ সরানো এবং প্লাবিত বাড়িগুলোতে উদ্ধারকাজ চালিয়েছেন।
আইন এলাকায় বজ্রপাতের কারণে একাধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে লাওঁ শহরের একটি ঘটনায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। ঝড়ের কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহও ব্যাহত হয়েছে। রোববার (২৮ জুন) সকালে ৬০ হাজারের বেশি বাড়িতে বিদ্যুৎ ছিল না।
এদিকে, বেলজিয়ামেও ভয়াবহ ঝড়ের প্রভাব পড়েছে। দেশটির রাজধানী ব্রাসেলসের উপকণ্ঠে একটি গাছ গাড়ির ওপর ভেঙে পড়লে একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ রবিন মিয়া
নির্বাহী সম্পাদকঃ ইরিন তৃষ্ণা
ফোন নাম্বারঃ 01937643838
ফোন নাম্বারঃ 01772666086
Email: News@doinikalokbarta.com
সম্পাদকীয় ও বার্তা কার্যালয়: সেকশন-৬, ব্লক-ক লেইন-১, বাড়ি - ২০/১ মিরপুর, ঢাকা-১২১৬
Copyright © 2025 All rights reserved দৈনিক আলোক বার্তা