আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ দুই দেশের সীমান্তে সংঘর্ষের পর আফগানিস্থানে সবচেয়ে বড় হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির বিমান হামলায় আফগানিস্তানের নাঙ্গারহার ও পাকতিকা প্রদেশে বহু বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। মৃতদের মধ্যে শিশুও রয়েছেন।

শনিবার রাতভর ওই হামলায় ধ্বংসস্তূপের নিচে মরদেহ চাপা পড়েছে। এতে কয়েক ডজন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে স্থানীয়রাও উদ্ধারে অংশ নিয়েছেন।

ইসলামাবাদ জানিয়েছে, তারা সীমান্তবর্তী এলাকায় আফগানিস্তানভিত্তিক জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোকে লক্ষ্য করে সাতটি স্থানে হামলা চালিয়েছে। কয়েকদিন আগে পাকিস্তানে ঘটে যাওয়া আত্মঘাতী বোমা হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। সেনারা ইসলামিক স্টেটের একটি শাখা এবং তাদের সহযোগীদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলায় নাঙ্গারহার প্রদেশের একটি মাদ্রাসা ও কিছু বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেকে চাপা পড়েছেন।

নাঙ্গারহার পুলিশ জানিয়েছেন, রাত প্রায় বারোটার দিকে হামলা শুরু হয়। তিনটি জেলায় একযোগে এ আঘাত করা হয়েছে। পুলিশের মুখপাত্র সায়েদ তাইয়েব হাম্মাদ বলেন, ‘অনেক নিরপরাধ মানুষ নিহত হয়েছেন। একটি বাড়িতে ২৩ জন পরিবারের সদস্য ছিলেন। তার মধ্যে আহত অবস্থায় পাঁচজনকে উদ্ধার করা হয়েছে।’

আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পাকিস্তানের এই হামলার ‘যথাযথ ও সুপরিকল্পিত জবাব’ দেওয়া হবে।

২০২১ সালে তালেবান সরকার আফগানিস্তানের ক্ষমতায় আসার পর দুই দেশের মধ্যে বিরোধ বৃদ্ধি পায়। দুই দেশের সীমান্তে সর্বশেষ বড় সংঘর্ষ হয়েছিল গত অক্টোবর মাসে। তখন প্রায় এক সপ্তাহ ধরে তীব্র গোলাগুলি ও সংঘর্ষ চলে।

জাতিসংঘ মিশনের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে পাকিস্তানি সামরিক অভিযানে অন্তত ৭০ জন আফগান বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় প্রাথমিক যুদ্ধবিরতির পর বেশ কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে, কিন্তু এখনও দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী চুক্তি হয়নি।

পাকিস্তান দাবি করছে, বারবার তাগিদের পরও তালেবান সরকার আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানে হামলা চালানো জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। অন্যদিকে, আফগান সরকার জঙ্গিদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

সূত্র: গালফ নিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *